1. admin@ajkerunmocon.com : ajkerunmocon.com :
রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
ঠাকুরগাঁওয়ে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন। অস্ত্রোপচার হতে চলেছে বলিউডের অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনর। কুষ্টিয়ার হাউজিংয়ে ভূমিদস্যু কর্তৃক নির্মানাধীন বাড়ি ভাংচুর করে জমি দখলের চেষ্টা। ভেড়ামারা জুনিয়াদহ মামুন মুন্সির প্রতারণার ফাঁদে সর্বশান্ত হয়ে দিশেহারা ভুক্তভোগী পরিবারটি। প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্রদলের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ। নিরলস কাজ করছেন এমপি ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ। শিলাইদহের কুঠিবাড়ি ও বাঘা যতিনের ভিটা পরিদর্শন করলেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে বর্তমান সময়ের অবস্থা! আসন্ন ইউপি নিবার্চনে ৫নং সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী মো:আনিছুর রহমান মিলন। ঝিনাইদহে ১৮ মাসের কাজ ৫ বছর তবু হস্তান্তর হয়নি আড়াই’শ বেড হাসপাতাল ভবন।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যানগ্রোভ বন নিঝুম দ্বীপ

তারেকুল ইসলাম বিশেষ রিপোর্টার
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৯৫ বার পড়া হয়েছে

 

নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের একটি ছোট্ট দ্বীপ। এটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত। ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার পুরো দ্বীপটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৩ সালে দ্বীপটি জাহাজমারা ইউনিয়ন হতে পৃথক হয়ে স্বতন্ত্র ইউনিয়নের মর্যাদা লাভ করে। নিঝুম দ্বীপের পূর্ব নাম ছিলো চর-ওসমান, আবার কেউ কেউ একে ইছামতীর চরও বলত। এ চরে প্রচুর ইছা মাছ (চিংড়ীর স্হানীয় নাম) পাওয়া যেত বলে একে ইছামতির চরও বলা হত।

ওসমান নামের একজন বাথানিয়া তার মহিষের বাথান নিয়ে প্রথম নিঝুম দ্বীপে বসত গড়েন। তখন এই নামেই এর নামকরণ হয়েছিলো। পরে হাতিয়ার সাংসদ আমিরুল ইসলাম কালাম এই নাম বদলে নিঝুম দ্বীপ নামকরণ করেন। মূলত বাল্লারচর, চর ওসমান, কামলার চর এবং মৌলভির চর – এই চারটি চর মিলিয়ে নিঝুম দ্বীপ। প্রায় ১৪,০৫০ একরের দ্বীপটি ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে জেগে ওঠে। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে জন বসতি গড়ে উঠে। ১৯৭০ এর ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে দ্বীপটিতে কোন প্রানের অস্তিত্ব ছিলনা। ঘূর্ণিঝড়ের পরে তৎকালীন হাতিয়ার জননন্দিত নেতা আমিরুল ইসলাম কালাম সাহেব দ্বীপটিতে পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন যে কোন প্রানের অস্তিত্ব নাই, তাই তিনি আক্ষেপের সুরে বলে ছিলেন হায় নিঝুম! সেখান থেকে দ্বীপটির নতুন নাম নিঝুম দ্বীপ।

এ দ্বীপের মাটি চিকচিকে বালুকাময়, তাই জেলেরা নিজ থেকে নামকরণ করে বালুর চর। এই দ্বীপটিতে মাঝে মাঝে বালুর ঢিবি বা টিলার মতো ছিল বিধায় স্থানীয় লোকজন এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বা বাল্লারচর বলেও ডাকত। বর্তমানে নিঝুমদ্বীপ নাম হলেও স্থানীয় লোকেরা এখনো এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বা বাল্লারচর বলেই সম্বোধন করে।

বাংলাদেশের বনবিভাগ ৭০-এর দশকে বন বিভাগের কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চার জোড়া হরিণ ছাড়ে। নিঝুম দ্বীপ এখন হরিণের অভয়ারণ্য। ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দের হরিণশুমারি অনুযায়ী হরিণের সংখ্যা ২২,০০০। নোনা পানিতে বেষ্টিত নিঝুম দ্বীপ কেওড়া গাছের অভয়ারণ্য। ম্যানগ্রোভ বনের মধ্যে সুন্দরবনের পরে নিঝুম দ্বীপকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বলে অনেকে দাবী করেন।

আয়তন ও জনসংখ্যা

প্রায় ৯১ বর্গ কিমি আয়তনের নিঝুম দ্বীপে ৯টি গুচ্ছ গ্রাম রয়েছে। এই গুচ্ছ গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ছোটখাটো ঝুপড়ি ঘর। ১৯৯৬ সালের হিসাব অনুযায়ী নিঝুম দ্বীপ ৩৬৯৭০.৪৫৪ হেক্টর এলাকা জুড়ে অবস্থিত।

নদী-খাল সমূহ ও জীবিকা

নিঝুম দ্বীপের এক দিকে মেঘনা নদী আর তিন দিকে বঙ্গোপসাগর ঘিরে রেখেছে। নিঝুমদ্বীপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো মাইলের পর মাইল জুড়ে কেওড়া বন আর সেই বনের পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা চিত্রা হরিণ।

নিঝুমদ্বীপের বর্তমান আয়তন প্রায় ৯২ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তর অংশে রয়েছে বন্দরটিলা। দ্বীপের ৭০ ভাগ মানুষ মৎস্যজীবী ও ৩০ ভাগ কৃষিজীবী। গভীর সমুদ্র ও নদীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছধরে জীবিকা নির্বাহ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বসবাসকারীরা থাকে আতঙ্কিত। তবুও জীবিকার টানে তাদের গভীর সমুদ্রে পারি জমাতে হয়। নিঝুমদ্বীপে খালগুলোর মধ্যে চৌধুরীর খাল, পটকাখালী খাল, সোয়ানখালী খাল, ডুবাই খাল, ধামসাখালী খাল, ভট্রোখালী খাল, কাউনিয়া খাল, লেংটা খাল।

দর্শনার্থী স্থান

কমলার দ্বীপ: সেখানের কমলার খালে অনেক ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। এছাড়াও আশে পাশের দ্বীপগুলো সুন্দর। পুরো দ্বীপটা হেঁটে হেঁটে ঘুরে আসা যায়,মন ভরে যাবে। ঘূর্ণিঝড়ের পরে জাহাজ থেকে এই দ্বীপে কয়েক বাক্স কমলা পড়ে থাকতে দেখে এর নামকরন করা হয় কমলার দ্বীপ।

চৌধুরী খাল ও কবিরার (কবির নামে এক জেলের নৌকা ডুবে যায়) চর।

চোয়াখালী ফরেস্ট ও চোয়াখালী সমুদ্র সৈকত।

ম্যানগ্রোভ বন: নিঝুম দ্বীপ বনায়ন প্রকল্প।আছে কেওড়া গাছ,গেউয়া গাছ আর লতাগুল্ন।

নামার বাজার সমুদ্র সৈকত (প্রধান ভূমি ও সৈকত):

দমার চর: বঙ্গোপসাগরের সম্প্রতি আরো একটি সমুদ্র সৈকত জেগে উঠেছে। সৈকতটি একেবারে আনকোরা, কুমারী। একে এখন ডাকা হচ্ছে ‘কুমারী সমুদ্র সৈকত’ বলে। নিঝুম দ্বীপের লোকজন এবং মাছ ধরতে যাওয়া লোকেরা এই সৈকতকে বলে ‘দেইলা’ বা বালুর স্তুপ।

যাতায়াত

অন্যান্য অঞ্চলের সাথে যোগাযোগের জন্য জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করতে হয় নিঝুম দ্বীপের মানুষদের। হাতিয়া, ভোলা কিংবা ঢাকার সাথে যোগাযোগ করতে হলে তাদেরকে পুরোপুরি জোয়ার ভাটা মেনে চলতে হয়। ঢাকায় যেতে হলে তাদেরকে সকাল ৯ টার (জোয়ার আসার) পর হাতিয়ার উদ্দেশ্য যাত্রা করতে হয়। প্রায় ২-৩ ঘণ্টা সময় পর ট্রলার হাতিয়া পৌঁছায়। অতঃপর পাওয়া যায় ঢাকাগামী লঞ্চ, যেটি প্রতিদিন একবেলা ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এই লঞ্চটি বরিশাল এবং ভোলা হয়ে ঢাকায় পৌঁছায় বিধায় নিঝুম দ্বীপের মানুষজন ভোলা কিংবা বরিশালে যেতে পারেন এই লঞ্চে করেই। এছাড়া হাতিয়া কিংবা ঢাকায় আসার জন্য রয়েছে বিকল্প পথ। বন্দরটিলা থেকে নদী পার হয়ে হাতিয়ায় পৌঁছতে হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন যানবাহন পার করে প্রথমে হাতিয়া শহরে তারপর লঞ্চে পার হয়ে মাইজদি অতঃপর ঢাকায় পৌঁছতে হয়।

পর্যটন নিবাস
নিঝুম দ্বীপে পর্যটকদের জন্য রয়েছে অবকাশযাপ কেন্দ্র, যেখানে রয়েছে পানি সরবরাহ এবং জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে। খাবারের জন্য স্থানীয় হোটেল রয়েছে যাতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত চাল, মাছ, মুরগী, ডিম ইত্যাদি খাবার পাওয়া যায়।

১। নিঝুম রিসোর্ট (অবকাশ হোটেল) নামার বাজার
২। হোটেল শাহিন,নামার বাজার
৩। হোটেল সোহেল,নামার বাজার
৪। মসজিদ বোর্ডিং, নামার বাজা
৫। নিঝুম ড্রিম ল্যান্ড রিসোর্ট, বন্দরটিলা
৬। হোটেল দ্বীপ সম্পদ,(সৈয়দ চাচার থাকা ও খাওয়ার হোটেল) নামার বাজার
৭। হোটেল শেরাটন, বন্দরটিলা বাজার
৮। জেলা পরিষদ ডাক বাংলো
৯। বন বিভাগের ডাকবাংলো
১০। মাহমুদ বোডিং
১১। প্রাথমিক বিদ্যালয়

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় ইয়োলো হোস্ট