1. admin@ajkerunmocon.com : ajkerunmocon.com :
  2. news@ajkerunmocon.com : ajker unmocon.com : ajker unmocon.com
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন

স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২১ পেলেন মধুপুরের গর্বিত সন্তান-ডাঃ মুন্ময় গুহ

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ মে, ২০২১
  • ২৪৩৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃসুজন,মধুপুর(টাংগাইল)ঃ ড. মৃন্ময় গুহ নিয়োগী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশের সর্ব্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় পদক স্বাধীনতা পুরষ্কার ২০২১ পেলেন। দীর্ঘ ১৮ বছআরডিআরএস এর মাধ্যমে ড.নিয়োগী দেশের উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা নিরসনে অসামান্য অবদান রেখে আজ তার স্বীকৃতি বুঝে নিলেন বঙ্গবন্ধু তনয়ার হাত থেকে।

 

যে মঙ্গা ছিলো দেশের উত্তরাঞ্চলে একটি ভয়াবহ অভিশাপ তা আজ দূরীভূত! কৃষক সেখানে সারা বছর কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক ১৯৯৭ সনে উদ্ভাবিত স্বল্প মেয়াদি ব্রি ৩৩ ধানের বীজ সংগ্রহ করে ২০০৪ সন থেকে পরীক্ষা নিরিক্ষা শুরু করেন মাঠে ময়দানে। এই কৃষি বিজ্ঞানির ছিলো না কোন গবেষণাগার বা বিজ্ঞানাগার।কৃষকের ফসলের মাঠকেই তিনি তার ল্যাবরোটারি হিসেবে ব্যবহার করছেন।

 

তিনি তার গবেষণায় দেখলেন ব্রি ধান ৩৩ জুন মাসে বপন করলে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ থোকে অক্টোবর মাসের শুরু পর্যন্ত অর্থাৎ মঙ্গার সময় কাটা যায় এবং ফসল ভালো হয়। এছাড়া রোপা আমন হিসেবে জুন মাসের শেষে বা জুলাই মাসের প্রথমে লাগালে অক্টোবরের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এই ফসল কাঁটা যায়।শুধু তাই নয়, অক্টোবর মাসেই আমন ধান কাঁটার ফলে জমিতে পরবর্তী ফসল আলু,গম, ভূট্টা সবজি সঠিক সময়ে অর্থাৎ নভেম্বরেই বপন করা যাচ্ছে, যা এতকাল করা যায়নি।

 

ড.নিয়োগীর গবেষণায় স্বল্পমেয়াদী ধানের উপযোগিতা প্রমানিত হলে পরবর্তীতে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্পমেয়াদী ধানের জাত উদ্ভাবনে সফলতা অর্জন করে। তিনি বৃহত্তর রংপুরে আর ডি আর এস এর মাধ্যমে ৫০ হাজারের বেশি কৃষকের মাঝে এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করেন।এর ফলে শুধু আশ্বিন – কার্তিক মাসে নয়, সারা বছর কৃষি জমিতে কৃষকের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা হলো।ফলশ্রুতিতে উত্তরাঞ্চলে মঙ্গার হয়েছে অবসান। এছাড়া ড.নিয়োগী বোরো ধান কাঁটার পর গাছের গোড়া থেকে যে কুশি বের হয়, তা স্বস্থানে রেখে এপ্রিল মে মাসের বৃষ্টি নির্ভর পরিবেশে অত্যন্ত কম খরচে একটি অতিরিক্ত ধান আবাদের প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করেছেন, যা অনুসরণ করে কৃষক লাভবান হচ্ছে।

 

ড.নিয়োগী বর্তমানে বাংলাদেশের উপকূলীয় লবনাক্ত এলাকায় কৃষির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। উপকূলে ১ লক্ষ হেক্টরের বেশি জমিতে শুষ্ক মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার ( ACIAR) এবং বাংলাদেশের ( KGF ) এর অর্থায়নে, ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার (CSIRO) সহ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ গম ও ভূট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ প্রকল্পে তিনি লবনাক্ততা ও প্রতিকূলতা সহিষ্ণু গম ও ডাল জাতীয় ফসল নিয়ে গত ৪ বছর ধরে যে কাজ করছেন তাতে আশা করা যায় দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ পতিত জমিতে শুষ্ক মৌসুমে ধান কাটার পর কৃষকেরা একটি অতিরিক্ত ফসল ঘরে তুলতে পারবে।
তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ডিপুটি প্রজেক্ট লিডার হিসেবে কর্মরত আছেন বাংলাদেশেই। তিনি সুইজারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ইটালি, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, জাপান,দ.কোরিয়া, তাঞ্জানিয়া, ভারত, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং প্রথিতযশা বিজ্ঞানীদের গুণগত পরামর্শ গ্রহণ করে তার গবেষণাকে আরো গ্রহণযোগ্য ও আধুনিকরন করেছেন।তাঁর প্রকাশিত বই ও প্রবন্ধ পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ সমদৃত ও বহুল আলোচিত।

 

ড.নিয়োগী মধুপুর রানী ভবানী থেকে এস এস সি ; মির্জাপুর কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে স্নাতক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ও নরওয়ের অসলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন গবেষণায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ফেব্রুয়ারী ২০১১ থেকে ডিসেম্বর ২০১২ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ইকুম্যনিক্যাল এডভোকেসি এ্যালায়েন্সের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

আরো লেখাসমূহ

প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত